Home > All Updates > যত্নে থাকুক দাম্পত্য – সুখের সংসারের কি সেই চাবিকাঠি? জেনে নিন এখনই
All UpdatesBengaliLifestyle

যত্নে থাকুক দাম্পত্য – সুখের সংসারের কি সেই চাবিকাঠি? জেনে নিন এখনই

“সংসার সুখী হয় রমনীর গুণে”- এই কয়েকটি শব্দবন্ধ বহুল প্রচলিত হলেও বাস্তবে সব ক্ষেত্রে এর সত্যতা নেই। বরং একে অন্যের সাহচর্য, বোঝাপড়ায় গড়ে ওঠে সুখী গৃহকোণ। সুখী দাম্পত্য জীবন সকলেই চায়। কিন্তু চাইলেই তো আর জীবনে সুখ পাওয়া যায় না। সুখী দাম্পত্য জীবন পেতে গেলে তার কতগুলি শর্ত মেনে চলতে হয়। এই শর্তগুলি মানলেই জীবন হয়ে ওঠে আনন্দময়। এক সংসারে থাকতে গেলে হাতা আর খুন্তির মধ্যে কিছু ঠোকা ঠুকি লেগেই থাকে। কিন্তু তা বলে একসঙ্গে থাকব না বললে কীভাবে চলবে! তাহলে চট জলদি নিচের শর্তগুলিতে চোখ বুলিয়েই ভাবুন কীভাবে যত্নে রাখবেন আপনার দাম্পত্য জীবনকে.

ঘুমোতে যাওয়ার আগেই মিটিয়ে নিন মনমালিন্য

রাগকে সঙ্গে করে বিছানায় যাবেন না। মাথা গরম তো সকলেরই হয়। কিন্তু তা বলে এক মুখ রাগ নিয়ে বিছানায় গেলে কখনওই দাম্পত্য আর সুখীর আখ্যা পাবে না। তাই বিছানায় যাওয়ার আগেই নিজের রাগকে থিতু করে তবেই বিছানায় যান।

Picture Source – Google

একে অপরকে চিনতে চেষ্টা করুন

বিয়ের পর একসাথে থাকতে শুরু করার আগেই একে অপরকে চেনাটা খুবই জরুরি। মতানৈক্য হতেই পারে। দুজন আলাদা মানুষ, তাদের আলাদা চিন্তা ভাবনা হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তার জেরে যদি বাড়িতে কাক আর চিল বসতে না পারে তাহলে অশান্তি ভোগ করেন কিন্তু দুজনেই। তাই এক অপরের কথা শুনুন এবং পরে মাথা ঠান্ডা হলে অপরকে বুঝিয়ে বলুন, দেখবেন ঝামেলা মিটে যাবে।

Also Read গরমের শুরুতেই যত্ন নিন ত্বকের, কিভাবে হবে মুশকিল আসান – জেনে নিন এখনই

ক্ষমা করতে শিখুন

ভুল মানুষ মাত্রই হয়ে থাকে। তবে সেই ভুলটাকে ধরে বসে থাকবেন না। মাথা ঠান্ডা করে স্বামী অথবা স্ত্রীকে ভুলটা ধরিয়ে দিন। আত্মসম্মানে আঘাত না লাগলে তার ভুলকে ক্ষমা করে দিন। ক্ষমা করার ওপরে কোনও কথাই থাকতে পারে না। ক্ষমা করার পর এই ভুল নিয়ে আর কখনওই কোনও কথা বলবেন না। ভুলের কথা সম্পূর্ণভাবে ভুলে যান।

প্রয়োজনে চুপ করে থাকা অভ্যেস করুন

চুপ করে থাকতে পারা টা একটা বড় কাজ। বিবাহিত জীবনে মাঝে মধ্যে চুপ করে থাকলে কিছুই যায় আসে না। তাই একজন বেশি কথা বললে নিজে একটু চুপ করে থেকেই দেখুন না কি হয়! এক তরফা ঝগড়া কাহাতক আর চলতে পারেন।

Also Read সেবাই যখন জীবিকা – কিভাবে আসবেন এই পেশায়- রইলো তার তত্ত্বতালাশ

অফিসের কাজ অফিসেই থাক

অফিসের কাজ কখনওই বাড়িতে করবেন না। অফিসের যাবতীয় চিন্তা ভাবনা ফেলে আসবেন অফিসের মধ্যেই। তাকে সঙ্গে করে বাড়িতে নিয়ে এসে নিজের কাছের মানুষদের ওপর রোজ ওই রাগ দেখালে আর দাম্পত্য জীবন টিঁকবে না।

সব সময় বন্ধুত্ব রাখুন

বিয়ে করেই টিপিক্যাল স্বামী-স্ত্রীতে পরিণত হয়ে যাবেন না। দেখবেন দুজনের মধ্যে যেন বন্ধুত্বটি বর্তমান থাকে। বন্ধুত্ব থাকলেই আর কোনও অসুবিধা হবে না।

নিজের জীবন সাথীর সব থেকে বড় সাহচর্য হন

যে কোনও খারাপ সময়ের জন্য নিজের জীবনসাথীকে কখনওই দায়ী করবেন না। যদিও আপনি জানেন তিনিই দায়ি। সেই খারাপ সময় তাঁর পাশে দাঁড়ান। তাঁর সব থেকে বড় শক্তি হয়ে উঠুন। যখন সারা দুনিয়া আপনার সাথীর অপরদিকে চলে যাবে তখনও তার হাতটাকে শক্ত করে ধরে থাকুন। দেখবেন কোনও দিন টলমল করবে না সম্পর্কের সেতু।

তুলনা করবেন না

হতেই পারে আপনার স্বামী বা স্ত্রীর চাইতেও নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে আরও বেশি পারদর্শী কেউ আপনার খুব পরিচিত বা কোনো প্রিয়জন। তাকে ব্যক্তিগত ভাবে প্রশংসা করতেই পারেন, কিন্তু স্বামী বা স্ত্রীর সাথে কখনই তার তুলনা করবেন না। এই বিষয় টি শুধুমাত্র আত্মসম্মানবোধ কেই যে আক্রান্ত করে তা নয়, এতে ভরসা হারাতে পারে সম্পর্ক।

Also Read দিনের শুরু হোক বা শেষ, একাকিত্বের নিরাপদ আশ্রয়ই হলো এক চিলতে বারান্দা – কিভাবে সাজাবেন তাকে

সারপ্রাইজ দিন

বিয়ের বহু বছর পরেও যাতে প্রেম আপনাদের কাছ থেকে দূরে সরে যেতে না তার জন্য একে ওপরকে সারপ্রাইজ দিন। দেখবেন এই সারপ্রাইজের মাধ্যমেই আপনাদের মধ্যেকার প্রেম নতুন ভাবে জেগে উঠবে।

স্পর্শ করুন

দৈনন্দিন জীবনে দাম্পত্যের মূল ফ্লেভার টিকে বজায় রাখতে স্পর্শ করুন আপনার সঙ্গী কে৷ স্পর্শ মানেই যে শুধুমাত্র যৌন স্পর্শ তা কিন্তু নয়, স্পর্শ হোক স্নেহের, ভালোবাসার। যতক্ষণ একসাথে থাকবেন যে কোনো কারণে অকারণে তাকে স্পর্শ করতেই পারেন। এতে আপনার সঙ্গী টিও বুঝবেন আপনি সবসময় তার কাছে একই রকম ভাবে আছেন।