Home > All Updates > যে দশটি কারণে উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষ আবার ভারতীয় জনতা পার্টি সরকারকেই ক্ষমতায় আনবে
All UpdatesBengaliGuest PostNationalPoliticsTripura

যে দশটি কারণে উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষ আবার ভারতীয় জনতা পার্টি সরকারকেই ক্ষমতায় আনবে

২০১৪ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি কেন্দ্রে বহুমত নিয়ে সরকার গঠন করে এবং ২০১৫ সালে বিজেপি ১০০ মিলিয়ন নথিভুক্ত সদস্য নিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে । এরপর থেকেই বিজেপি উত্তর-পূর্ব ভারতে নিজের রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের উপর বিশেষভাবে মনোনিবেশ করে । বর্তমানে সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারত জুড়ে বিজেপি ও বিজেপির জোট সরকার রয়েছে । উত্তর-পূর্ব ভারত সম্পর্কে বিজেপির দৃষ্টিভঙ্গির একটি হালকা আভাস পাওয়া যায় ২০১৪ সালে মেঘালয় রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণে । তিনি বলেছিলেন যে, “বাস্তুশাস্ত্র মতে গৃহের উত্তর-পূর্ব কোণ সর্বদা শ্রেষ্ঠ হওয়া আবশ্যিক । তবেই গৃহ সুন্দর হবে । ঠিক একইভাবে যদি আমরা উত্তর-পূর্ব ভারতের যত্ন নেই তবেই আমাদের ভারত এগিয়ে যাবে” । শুধু ভাষণেই নয়, বাস্তবেও বিজেপি সরকার এই অঞ্চলের সামগ্ৰিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে এবং এর মধ্যে বেশ কিছু পরিকল্পনা ইতিমধ্যে বাস্তবায়িতও হয়ে গেছে । সামনেই লোকসভা নির্বাচন । ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের বেশিরভাগ সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে যে বিজেপি পুনরায় কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসবে । বিজেপিকে নির্বাচিত করার পেছনে প্রচুর কারণ দর্শানো যেতে পারে । এখানে বাছাই করা দশটি কারণ নিয়ে আলোচনা করা হলো ।

NARENDRA MODI ( Source -Google)
  • উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের বিজেপিকে পছন্দ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো নরেন্দ্র মোদীর ‘act east’ নীতি । এই নীতির মাধ্যমে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার উত্তর-পূর্ব ভারতের রেল, সড়ক পরিবহন এবং বিমান পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে । এই নীতির অঙ্গ হিসেবে ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাথে উত্তর-পূর্ব ভারতকে যুক্ত করা হয়েছে এবং একইসাথে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যগুলোর মধ্যেও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছে । বিজেপির এই নীতির ফলে একদিকে যেমন দীর্ঘকাল ভারতের মূল জনপদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা উত্তর-পূর্ব ভারত ভারতের মূলধারার সাথে যুক্ত হয়েছে ঠিক তেমনি এই অঞ্চলের মানুষের আর্থিক অবস্থারও উন্নতি হয়েছে

Act East Policy সম্পর্কে আড়ও জানতে এখানে ক্লিক করুণ

  • ‘Digital North East Vision 2022’-এর মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারতের ‘অষ্টলক্ষ্মী’ আটটি রাজ্যের জন্য আটটি বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যা উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের জীবনযাত্রা বদলে দেবে । এই ডিজিটাল ভিশনে আটটি লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে যা ২০২২ সালের মধ্যে অর্জন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে । এই আটটি লক্ষ্যের মধ্যে ডিজিটাল লেনদেন, ডিজিটাল সেবা, তথ্য প্রযুক্তি ও সাইবার সিকিউরিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে । এছাড়া বাংলাদেশের সহায়তায় এই অঞ্চলে ১০ গিগাবাইট অতিরিক্ত ব্যান্ডউইথ উপলব্ধ করা হয়েছে । নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ডিজিটাল ইন্ডিয়া নতুনভাবে এই অঞ্চলের জীবনযাত্রা বদলে দেওয়ার কাজ করছে ।
  • উত্তর-পূর্ব ভারতে পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে বিজেপি সরকার ‘North East Special Infrastructure Scheme’-এর অধীনে জল সরবরাহ, বিদ্যুৎ উৎপাদন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন ইত্যাদি বিষয়ের জন্য পৃথকভাবে অর্থ বন্টন করেছে যা এই অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে সাহায্য করছে । পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন প্রত্যক্ষভাবে এই অঞ্চলে নতুন রোজগারের পথ খুলবে এবং এর ফলস্বরূপ এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক শ্রীবৃদ্ধি ঘটবে ।
  • UDAN স্কীমের অন্তর্গত সিকিমের প্রথম বিমানবন্দরের উদ্বোধন নিঃসন্দেহে উত্তর-পূর্বের মানুষের কাছে বহুকাল প্রত্যাশিত ছিল । সিকিমের পাকইয়ং এয়ারপোর্ট ভারতের ১০০তম এয়ারপোর্ট । সাধারণ মানুষ কথা ভেবে এটিকে UDAN স্কীমের অন্তর্গত রাখা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষও বিমানে সফর করতে পারেন । লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির পুনরুত্থানে এই পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে ।
  • উত্তর-পূর্ব ভারতের দ্রুত উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে নীতি আয়োগ ‘Niti Forum for North East’ গঠন করে । এই ফোরামে বলা হয় যে এই অঞ্চলের উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে “HIRA”(Highways, inland waterways, railways & airways) গ্ৰহণ করা হয় । এছাড়াও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তিগত শিক্ষা ইত্যাদির উপর বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হবে ।
  • উত্তর-পূর্ব ভারতের আঞ্চলিক সংস্কৃতির উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকার সিকিম, অরুনাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড ও মিজোরামে Tribal Research Institutes গঠন করেছে যা এই অঞ্চলের স্থানীয় সংস্কৃতি অধ্যয়ন, গবেষণা, সংরক্ষণ ও উন্নয়নের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে । এছাড়া North Eastern Council স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ সম্বন্ধিত বিভিন্ন পরিকল্পনার জন্য প্রচুর অর্থ বরাদ্দ করেছে ।
  • বিজেপি সরকার ভারতের অর্থনীতির আধুনিকায়নে বেশ কিছু সংস্কারের সূচনা করেছে । যেমন জি.এস.টি. প্রণয়নের মাধ্যমে দেশব্যাপী পরোক্ষ করের বিচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ককে একত্রিত করা হয়েছে । মূল্যবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও এই সরকার অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে যা শুধু উত্তর-পূর্ব ভারতই নয়, ভারতের প্রতিটি প্রান্তের মানুষের মনে বিজেপি সরকারের একটি স্বচ্ছ ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছে । সম্প্রতি ভারত বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহৎ অর্থনীতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ।
  • বিজেপি সরকারের আরো একটি উল্লেখযোগ্য প্রকল্প হলো আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্য বীমা । এই প্রকল্পের মাধ্যমে যেকোনো পিছিয়ে পড়া পরিবার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যেকোন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা করাতে পারেন । এটি বর্তমানে বিশ্বের সর্ববৃহৎ স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে । আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া মানুষের মধ্যে বিজেপির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে এই প্রকল্পের ভূমিকাই হবে সর্বাধিক ।
  • সাধারণ শ্রেণীর মানুষ যারা আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছেন তাদের জন্য কোনো সরকার কোনো পদক্ষেপ গ্ৰহণ করেনি । বিজেপি সরকারই এই প্রথম আর্থিক দিক থেকে দুর্বল উচ্চবর্ণের মানুষের জন্য চাকরি ও উচ্চশিক্ষায় ১০% সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে । বিজেপির এই পদক্ষেপ নিশ্চিতভাবেই আরবান ভোটারদের প্রভাবিত করবে ।
  • বিজেপির অন্যান্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বল যোজনা যার মাধ্যমে দেশের গ্ৰামীণ অঞ্চলের প্রায় ৫ কোটিরও বেশি পরিবারকে এল.পি.জি. কানেকশন প্রদান করা হয়েছে । উজালা স্কীমের মাধ্যমে সকলকে সস্তায় এল.ই.ডি. বাল্ব প্রদান করে বিজেপি সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ইলেকট্রিক বিলের বোঝাও অনেকাংশে লাঘব করতে সক্ষম হয়েছে । গোটা দেশেই এর সমান প্রভাব পড়েছে ও আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির পুনরুত্থানে এই সকল নীতি ও পদক্ষেপ ভোটারদের মতামত গঠনে সাহায্য করবে ।

Send Your Post