Home > All Updates > কোনোরকম শারীরিক মিলন ছাড়াই প্রেগন্যান্সি টেস্টের রিপোর্ট আসছে পজিটিভ – কি তার কারণ? কিভাবেই বা করাবেন এর চিকিৎসা
All Updates

কোনোরকম শারীরিক মিলন ছাড়াই প্রেগন্যান্সি টেস্টের রিপোর্ট আসছে পজিটিভ – কি তার কারণ? কিভাবেই বা করাবেন এর চিকিৎসা

মেয়েদের বেশ কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পিরিয়ড ,তলপেটে অনুভূত হচ্ছে অসহ্য যন্ত্রণাও। এমত অবস্থায় নিরুপায় হয়ে ছুটতে হচ্ছে গাইনোকলিস্টের কাছে। স্বভাবতই এক্ষেত্রে চিকিৎসার প্রথম ধাপ হচ্ছে প্রেগন্যান্সি টেস্ট এবং তাতে রিপোর্ট আসছে পজিটিভ। অথচ রোগী সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন কোনোরকম শারীরিক মিলনে আবদ্ধ হন নি তিনি। এমতাবস্থায় মানসিক অসহায়তার মধ্যে পড়েন কিছু তথাকথিত রক্ষণশীল পরিবার। অবিবাহিতা মেয়ের প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট পজিটিভ, অথচ সে দাবি করছে কোনোরকম শারীরিক সম্পর্কে আবদ্ধ হয়নি সে।

Picture Source- Google

প্রথমদিকে এরকম কয়েকটি কেসে রীতিমতো চিন্তায় পড়েছিলেন বিশিষ্ট গাইনোকলজিস্ট রা। সমস্যার সমাধান লুকিয়ে ছিলো অন্য কোথাও।

ডাক্তাররা এরপর এলেন আলট্রাসাউন্ডে।

Also Read দিনের শুরু হোক বা শেষ, একাকিত্বের নিরাপদ আশ্রয়ই হলো এক চিলতে বারান্দা – কিভাবে সাজাবেন তাকে

আলট্রাসনোগ্রাফিতে দেখা যায় রোগী গর্ভবতী নন। অর্থাৎ রোগীর তল পেটে কোন ফেটাস নেই।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে রোগী যখন গর্ভবতী নন সেক্ষেত্রে প্রেগনেন্সি টেস্ট পজেটিভ আসলো কিভাবে?এই ধরণের প্রেগন্যান্সির পরীক্ষায় যে স্ট্রিপ দিয়ে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা হয় সেই স্ট্রিপ আসলে ফেটাস ডিটেক্টর নয়।


Simple Ovarian Cysts on Ultrasound ( Source -Google)

একজন মহিলা যখন কনসিভ করেন তার ছয় দিনের মধ্যে হিউম্যান কোরিওনিক গোনাডোট্রপিন(এইচ সি জি) নামক একটি হরমোন নিঃসৃত হয় নারী দেহের প্লাসেন্টা  থেকে, জরায়ু তে ভ্রুণের ইম্পল্যান্টেশনের পর। যা ইউরিন এর মাধ্যনে দেহ থেকে বের হয়। হরমনটি মূলত সিঙ্কটিওট্রফোব্লাস্ট(প্লাসেন্টা অংশ) রক্ষার কাজে ব্যবহৃত হয়।

কিন্তু এই একই হরমোন বেশ কিছু টিউমার  যেমন সেমিনোমা, কোরিওকার্সিনোমা, জার্ম সেল টিউমার , হাইডাটিডিফর্ম মোল ফরমেশন, টেরাটোমা উইথ এলিমেন্টস অফ কোরিওকার্সিনোমা, আইলেট সেল টিউমার ইত্যাদি এর কারণেও নি:সৃত হতে পারে। সেক্ষেত্রে এই প্রেগন্যান্সি কিট দ্বারা করা প্রেগন্যান্সি টেস্টের রিপোর্ট আসে পজিটিভ।

এখানে বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে।

প্রথমত, যারা শারীরিক মিলনে আবদ্ধ হননি তাদের ক্ষেত্রে তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে চিকিৎসা ব্যবস্থা টিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সঠিক ওষুধ প্রয়োগে চিকিৎসা চলতে থাকে সঠিক রোগের।

দ্বিতীয়ত, যারা এটিকে অবাঞ্ছিত গর্ভধারণ ভেবে প্রশিক্ষণ হীন তথাকথিত হাতুড়ে চিকিৎসক এর কাছে যান গর্ভপাতের জন্য, তারা আরও বেশি করে সমস্যায় পড়েন।

Also Read ADHD-Attention Deficit Hyperactivity Disorder ,You should Know

মফস্বল বা গ্রামের দিকে এমনও দেখা যায়, এর ফল হয় আরও সাংঘাতিক। কিশোরী দের ক্ষেত্রে দেখা যায় এটিকে অবাঞ্ছিত গর্ভধারণ ভেবে ভয় এবং অসহায়তার কথা ভেবে পারিবারিক সম্মান রক্ষার্থে বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ। তাই স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞরা সমাজের সকল শ্রেণীর নারীদের কাছে এই বার্তা দিচ্ছেন যে মাসিক ঋতুচক্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে যারা শারীরিক মিলনে আবদ্ধ হন তারাও যারা না হন তারাও প্রেগন্যান্সি টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আলট্রাসাউন্ড করান যাতে সঠিক রোগটি নির্ণীত হয়। অযথা মানসিক অবসাদে ভুগবেন না। সমগ্র চিকিৎসা পদ্ধতিতে চিকিৎসক এর পরামর্শ মতো চলুন।