উচ্চমাধ্যমিক বা টুয়েলভের পর কোন দিকে গেলে সাফল্য আসবে ভবিষ্যতে- আলোচিত হলো তেমনই একটি বিষয় খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান

বর্তমান শিক্ষাক্ষেত্রে ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন বা খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান এমন একটি বিষয় যা শুধু নিজের জন্যে নয়, দেশের কাজেও লাগে। অর্থাৎ কেউ যদি এই বিষয়ে কেরিয়ার গড়তে চায়, তার পথ যে বেশ প্রসস্থ সেকথা বলাই বাহুল্য।

Career in food Nutration

ত্রিপুরাতে স্নাতক বা উচ্চশিক্ষার জন্য এখনো সেভাবে বিষয়টি পড়ানো হয় না। একমাত্র ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটি তে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর স্তরে বিষয় টি পড়ানো হয়।

তবে পশ্চিমবঙ্গে এবং তার বাইরেও বেশ কিছু কলেজে স্নাতক এবং তার পরবর্তী উচ্চশিক্ষার পর্যায়ে বিষয় টি পড়ানো হয়, রইলো তার হালহদিশ।

পশ্চিমবঙ্গে

স্নাতক স্তরে যে কলেজ গুলিতে পড়ানো হয়

★ ডিপার্টমেন্ট অফ হোম সায়েন্স (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বিভাগ)

www.caluniv.ac.in/academic/department/Home-sc.html

★ জয়পুরিয়া কলেজ

www.sajaipuriacollege.in

Also Read সেবাই যখন জীবিকা – কিভাবে আসবেন এই পেশায়- রইলো তার তত্ত্বতালাশ

Also Read আইটি সেক্টরে চাকরির স্বপ্ন? প্রস্তুতি শুরু হোক উচ্চমাধ্যমিকের পরেই; কোন কোর্সে ভর্তি হবেন? ঠিক করুন এখনই

★ নেতাজিনগর কলেজ ফর ইউমেন

www.netajinagarcollegeforwomen.in

★বিদ্যাসাগর কলেজ

www.vidyasagarcollege.edu.in

★বেহালা কলেজ

www.behalacollege.in

★ রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ কলেজ

Also Read[ বাড়িতে বসেই বাজিমাত – চমকপ্রদ রোজগার এবার অনলাইনে ]

★ সরোজিনী নাইডু কলেজ ফর উইমেন

www.sncwgs.ac.in

★সারদা মা গার্লস কলেজ, বারাসাত

www.smgc.co.in

★ কাঁচরাপাড়া কলেজ

www.kpcoll.net

এছাড়াও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত আরও কয়েকটি কলেজে পড়ানো হয়।

অন্যান্য রাজ্যে

★ ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ নিউট্রিশন, হায়দ্রাবাদ

www.ninindia.org

★ লেডি  ইরউইন কলেজ, মুম্বাই

www.ladyirwin.edu.in/index.aspx

★ অবিনাশী লিঙ্গম ইন্সটিটিউট ফর হোম সায়েন্স অ্যান্ড হায়ার এডুকেশন ফর উইমেন, কোয়েম্বাটুর

http://avinuty.ac.in/maincampus

★ এম এস ইউনিভার্সিটি, বরোদা

http://www.msubaroda.ac.in/

স্নাতক স্তরে ভর্তির যোগ্যতা

ফুড সায়েন্স বিষয়ে আধিপত্য রয়েছে রসায়নের। তাই কোনো ছাত্রছাত্রী এই বিষয় নিয়ে স্নাতকে ভর্তি হতে চাইলে তার দ্বাদশ শ্রেণীর সাবজেক্ট কম্বিনেশনে কেমিস্ট্রি বা রসায়ন থাকতেই হবে। ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি থাকতে পারে,বায়োলজি বা নিউট্রিশন থাকলেও ভালো৷ ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন অনার্সের সঙ্গে পাসকোর্সে কেমিস্ট্রি অতি অবশ্যই পড়তে হবে। এতে ভবিষ্যতে গবেষণা ক্ষেত্রেও অনেকটাই সুবিধা পাওয়া যায়। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মতে বাংলা মাধ্যম থেকে পড়তে আসা অনেক ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রেই প্রথম প্রথম ইংরেজিতে পড়তে অসুবিধে হয়। সুবিধেটা হলো, এখন অনেক জায়গাতেই বাংলা মাধ্যমে পড়ানো হয়। কিন্তু তাদের মতে, যে সকল ছাত্রছাত্রীরা বাংলা মাধ্যম থেকে এসেছে তারা যত তাড়াতাড়ি ইংরেজিতে সড়গড় হতে পারবে ততই ভালো। অধিকাংশ বইই ইংরেজি তে। তাছাড়া উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও ইংরেজি ছাড়া উপায় নেই।

স্নাতকোত্তর স্তরে যেসব ইউনিভার্সিটি বা কলেজ গুলিতে পড়ানো হয়

★ ডিপার্টমেন্ট অফ হোম সায়েন্স, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

★ ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি অফ হেলথ সায়েন্স

★ ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি অফ হেলথ্ সায়েন্সের অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অফ হাইজিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ

http://aiiph.gov.in/

★ ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইউনিভার্সিটি

www.wbsubregistration.org

★ রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ কলেজ

গবেষণা

ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন একটি ইন্টারডিসিপ্লিনারি বিষয়। পাঠক্রমে ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন ছাড়াও প্রাধান্য আছে বায়োকেমিস্ট্রি, মাইক্রোবায়োলজি, ফিজিওলজি এবং কেমিস্ট্রির মতো বিষয় গুলিরও। ফলত এইসব বিষয়ে পরে গবেষণার সুযোগ থাকেই।

কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণা করতে গেলে প্রথমত সর্বভারতীয় ইউজিসি নেট পরীক্ষায় বসতে হয়। যারা নেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় তাদের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত রিসার্চ এলিজিবিলিটি টেস্ট (রেট) -এর থিয়োরিটিকাল পরীক্ষা দিতে হয় না। সেক্ষেত্রে তাদের শুধু রেট -এর ভাইভা তে উত্তীর্ণ হতে হয়। কিন্তু যারা নেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারে না, তাদের রেট-এর থিয়োরি ভাইভা দুটো পরীক্ষা তেই উত্তীর্ণ হতে হয়। দেশের অনেক প্রথম সারির গবেষণাগারে গবেষণা করার সুযোগ থাকে ছাত্রছাত্রীদের।

ডিপ্লোমা কোর্স

বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন এর ডিপ্লোমা কোর্স রয়েছে। ইগনু তেও একটি ডিপ্লোমা কোর্স করানো হয়। এছাড়াও ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ ইউনিভার্সিটিতে ডিপ্লোমা ইন ডায়টেটিক্স পড়ানো হয়৷

কাজের সুযোগ

কোর্স শেষ করার পরে ইন্ডিয়ান ডায়টেটিক অ্যাসোসিয়েশনের কাছে আবেদন করলে পরীক্ষা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন নম্বর সহ রেজিস্টার্ড ডায়েটিশিয়ান হিসেবে কাজ করা যায়। ইন্টিগ্রেটেড চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট প্রোজেক্ট- কাজ পাওয়া যায়। বিভিন্ন নার্সিংহোমে ডায়েটিশিয়ান হিসেবে যোগ দেওয়া যায়। যেহেতু বিভিন্ন স্কুলে নিউট্রিশন পড়ানো হয়, তাই আসা যায় স্কুল শিক্ষকতায়। কলেজ সার্ভিস কমিশন বা নেট (লেকচারারশিপ) দিয়ে কলেজ শিক্ষক হিসেবেও যোগ দেওয়া যায়।