Home > All Updates > এবারের দোলে রঙিন হোক শান্তিনিকেতন – লাল পলাশের দেশে এক অনন্য বসন্ত উৎসব
All UpdatesBengaliEntertainmentTourism

এবারের দোলে রঙিন হোক শান্তিনিকেতন – লাল পলাশের দেশে এক অনন্য বসন্ত উৎসব

ক্যালেন্ডার বলে হাতে গোনা মাত্র কিছুদিন বাকি দোলের, দোল মানেই বসন্ত, আর বসন্ত মানে পলাশ; এবারের দোলে নাহয় একবার গিয়েই আসুন লাল পলাশের দেশে,পলাশ মানেই তো শান্তিনিকেতন।

আর শান্তিনিকেতন মানে বসন্ত উৎসব…

দোলের দিন এখানে পালিত হয় বসন্ত উৎসব। গোটা দেশ থেকে বাঙালিরা এসে ভিড় জমান এখানে। রবিঠাকুরের দেশ, রাঙামাটির দেশ, বাউলের দেশ শান্তিনিকেতন। অতীতে শান্তিনিকেতনে বসন্তের আগমনে নাচ, গান, আবৃত্তি ও নাট্যাভিনয়ের মাধ্যমে একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠান পালন করা হত। পরবর্তী কালে এই অনুষ্ঠানটি পরিব্যপ্ত হয়ে শান্তিনিকেতনের জনপ্রিয় উৎসব ‘বসন্ত উৎসব’ হিসেবে পরিচিতি পায়। ফাল্গুনী পূর্ণিমা অর্থাৎ দোলপূর্ণিমার দিন পালন করা হয় এই বসন্ত উৎসব। পূর্বরাত্রে বৈতালিক হয়৷ দোলের দিন সকালে ‘ওরে গৃহবাসী খোল দ্বার খোল’ গানটির মাধ্যমে বসন্ত উৎসবের সূচনা হয়। অংশগ্রহণ করেন পাঠভবন এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা৷ আশ্রম প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয় ছাত্রছাত্রীদের শোভাযাত্রা৷ ভুবনডাঙার মাঠে এসে সবাই মিলিত হন এবং ওখানেই পালিত হয় বসন্ত উৎসব।

Basanta Utshav In Shantiniketon ( Source – Google)

পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বোলপুর শহরের নিকট অবস্থিত একটি আশ্রম ও শিক্ষাকেন্দ্র। ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর নিভৃতে ঈশ্বরচিন্তা ও ধর্মালোচনার উদ্দেশ্যে বোলপুর শহরের উত্তরাংশে এই আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যা কালক্রমে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপ নেয়।

রবীন্দ্রনাথ তাঁর জীবনের দ্বিতীয়ার্ধের অধিকাংশ সময় শান্তিনিকেতন আশ্রমে অতিবাহিত করেছিলেন। তাঁর সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্মে এই আশ্রম ও আশ্রম-সংলগ্ন প্রাকৃতিক পরিবেশের উপস্থিতি সমুজ্জ্বল। শান্তিনিকেতন চত্বরে নিজের ও আশ্রমের অন্য আবাসিকদের বসবাসের জন্য রবীন্দ্রনাথ অনিন্দ্য সৌকর্যমণ্ডিত একাধিক ভবন নির্মাণ করিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে আশ্রমনিবাসী বিভিন্ন শিল্পী ও ভাস্করের সৃষ্টিকর্মে সজ্জিত হয়ে এই আশ্রম একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনস্থল হয়ে ওঠে। ১৯৫১ সালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ভারতের কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা লাভ করে।

Know About Tripura Tourism

শান্তিনিকেতন_ভবন


Patha Bhavana Campus in Shantiniketan

শান্তিনিকেতন ভবন আশ্রমের সবচেয়ে পুরনো বাড়ি। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬৪ সালে এই বাড়িটি তৈরি করিয়েছিলেন। বাড়িটি দালান বাড়ি। প্রথমে একতলা বাড়ি ছিল। পরে দোতলা হয়। বাড়ির উপরিভাগে খোদাই করা আছে সত্যাত্ম প্রাণারামং মন আনন্দং মহর্ষির প্রিয় উপনিষদের এই উক্তিটি। তিনি নিজে বাড়ির একতলায় ধ্যানে বসতেন। তাঁর অনুগামীরাও এখানে এসে থেকেছেন। কৈশোরে বাবার সঙ্গে হিমালয়ে যাওয়ার পথে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এখানে কিছুদিন বাস করেন। ব্রহ্মচর্য বিদ্যালয় স্থাপনের সময়ও রবীন্দ্রনাথ কিছুকাল সপরিবারে এই বাড়িতে বাস করেন

ছাতিমতলা

মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন রায়পুরের জমিদারবাড়িতে নিমন্ত্রন রক্ষা করতে আসছিলেন তখন এই ছাতিমতলায় কিছুক্ষণ এর জন্য বিশ্রাম করেন এবং এখানে তিনি তার “প্রাণের আরাম, মনের আনন্দ ও আত্মার শান্তি” পেয়েছিলেন । তখন রায়পুরের জমিদারের কাছথেকে ষোলো আনার বিনিময়ে ২০বিঘা জমি পাট্টা নেন । বর্তমানে ৭ই পৌষ সকাল ৭.৩০টায় এখানে উপাসনা হয় ।কিন্তু সেকালের সেই ছাতিম গাছ দুটি মরে গেছে। তারপর ঐ জায়গায় দুটি ছাতিম গাছ রোপণ করা হয়। সেই ছাতিম তলা বর্তমানে ঘেরা আছে সেখানে সাধারনের প্রবেশ নিশেধ।দক্ষিণ দিকের গেটে খোদাই করা আছে “তিনি আমার প্রাণের আরাম, মনের আনন্দ ও আত্মার শান্তি”।

এছাড়াও আরও বেশ কিছু দ্রষ্টব্য স্থান আছে শান্তিনিকেতনে। যেমন

সোনাঝুরি হাট  – এই হাট শনিবার দুপুরে বসে। সস্তায় কেনাকাটার জন্য শান্তিনিকেতনের লোকশিল্পীদের তৈরি শাড়ি,জামাকাপড়, গয়না এবং কাঠ,বাঁশ,মাটির তৈরি নানারকম জিনিসপত্রের বিরাট সম্ভার।

সৃজনী শিল্পগ্রাম- ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যের লোকশিল্পকে সযত্নে সাজিয়ে রাখা এখানে।

কোপাই নদী – এক অনাবিল শান্তির জায়গা। এখানেই রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন “আমাদের ছোটনদী চলে আঁকেবাঁকে”।

কঙ্কালিতলা – এটি একটি প্রসিদ্ধ সতীপীঠ হিসেবে খ্যাত।

কখন যাবেন

গরমকাল ছাড়া যেকোনো সময়েই যাওয়া যায়। শীতকালে পালিত হয় শান্তিনিকেতনের আরেকটি জনপ্রিয় উৎসব ‘পৌষ মেলা’। প্রতিবছর ৭ই পৌষ এই মেলার শুভারম্ভ হয়।চলে প্রায় এক সপ্তাহ।

কীভাবে যাবেন

হাওড়া থেকে রণদেবতা এক্সপ্রেস, শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস, কবিগুরু এক্সপ্রেস ছাড়াও রয়েছে আরও বেশ কিছু ট্রেন। শিয়ালদহ থেকে মা তারা এক্সপ্রেস। এছাড়াও গৌহাটি থেকে সরাইঘাট এক্সপ্রেস, এবং নিউ জলপাইগুড়ি থেকে কলকাতা গামী বেশিরভাগ ট্রেন বোলপুর-শান্তিনিকেতন যায়। নিকটবর্তী এয়ারপোর্ট কলকাতা।

কোথায় থাকবেন

সোনাঝুরি জঙ্গল সংলগ্ন ভিলেজ রিসর্ট গুলিতে রাত কাটানো এক অনন্য অভিজ্ঞতা। ভুবনডাঙার মাঠ সংলগ্ন সবরকম দামের বিভিন্ন হোটেল আছে। রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ট্যুরিজমের ইউথ হোস্টেল, ৬০ দিন আগে থেকে এর বুকিং শুরু হয়৷ বসন্ত উৎসব বা পৌষ মেলার সময় শান্তিনিকেতনে হোটেলের চাহিদা প্রচুর বেড়ে যায়, সেক্ষেত্রে পরের স্টেশন প্রান্তিকে থাকতে পারেন। নিরিবিলি পরিবেশে বেশ কিছু হোটেল গড়ে উঠেছে সেখানেও।

Also Read [ তথ্যচিত্রে ভেলোর – চিকিৎসা থেকে ভ্রমণ, সবকিছুর খুঁটিনাটি একঝলকে ]

লাল মাটির রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে কোন এক একলা বিকেলে পৌঁছে যাওয়া যায় খোয়াইয়ে। এবড়ো খেবড়ো খোয়াইয়ে সোনাঝুরী গাছের ফাঁক দিয়ে সূর্যটা টুক করে পালিয়ে যাওয়ার আগে আকাশের মুখে ঢেলে দিয়ে যায় এক বালতি কমলা রং। কোপাইয়ের ধার সাক্ষী থাকুক এমন সূর্যাস্তের।